সুশান ও স্বচ্ছতার অন্যতম অনুষঙ্গ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

১৭ জুলাই, ২০২০ ১৭:৩৮  
প্রায়ত ড. আলী আসগর, অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রথম বারের মতো অনলাইনে বিজ্ঞান কংগ্রেসে অংশ নিচ্ছে তৃতীয় শ্রেণী থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পড়ুয়া শিশু-কিশোর বিজ্ঞানীরা। শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. ইফতেখারুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনলাইন কংগ্রেসে সংযুক্ত ছিলেন জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মুনির চৌধুরী, বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের ট্রাস্টি ও সেন্ট্রাল উইম্যানস ইউনিভার্সিটির উপচার্য অধ্যাপক ড. পরভীন হাসান, বাংলাদশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণসম্পাদক ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির সহ-সভাপতি মুনির হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আরশাদ মোমেন, ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ফেরদৌস আজিম এবং বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদুর রহমান চৌধুরী। বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী এবং বিজ্ঞান কংগ্রেস ২০২০ এর আহ্বায়ক ড. মোশতাক ইবনে আয়ূব। বক্তব্যে সদ্য প্রয়াত ড. আলী আসগর এবং অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর স্বপ্নপূরণে কংগ্রেস এগিয়ে যাবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন কংগ্রেসের উদ্বোধক বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও  ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেন, মানুষ চেষ্টা করলে প্রতিকূলতাকে সুযোগে রূপান্তর করতে পারি। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা অনেক কিছু মিস করলেও আবার নতুন আঙ্গিকে কিন্তু করছি। এজন্য সকলকে আন্তরিকভাবে প্রয়াস চালাতে হবে। কেননা শিশুর প্রবীনদের চেয়ে উদ্যোমী ও উদ্ভাবনী শক্তি সম্পন্ন। তবে সবক্ষেত্রে সুশান অর্জন করার প্রতি গুরুত্বারোপ করে তিনি আরো বলেনম সুশানে আবশ্যকীয় স্বচ্ছতা আনতে হলে বিজ্ঞানের অবদান সবার ওপরে। বাংলাদশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির সাধারণসম্পাদক ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির সহ-সভাপতি মুনির হাসান জানান, স্কুল কলেজে ল্যাবগুলো প্রাণবন্ত না হওয়ায় মাকসুদুল আলম ল্যাবে খুদে বিজ্ঞানীদের কাজের সুযোগ দেয়া হয়। গবেষণা সহায়তায় গঠন করা হয়েছে চিলড্রেন সায়েন্স ফান্ড। আগামী বছর থেকে বছরে দুই বার বড় পরিসরে এই সহায়তা প্রদান করা হবে। বক্তব্যে বাংলাদেশে বিজ্ঞান গবেষণায় অগ্রজ প্রায়ত ড. আলী আসগর, অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী, আব্দুল্লাহ আল মুতী, হারুনুর রশীদ, মোবারক আলী আকন্দকে স্মরণ করেন তিনি। বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাজ্জাদুর রহমান বলেন, চিকিৎসক বা প্রকৌশলী হলেও কোভিড দেখিয়েছে একজ মেডিকেল টেকনলোজিস্টের গুরুত্বের বিষয়। একারণেই শিশুদের বিজ্ঞান গবেষণায় সম্পৃক্ত করতে হবে। কোভিড সময়টা বিজ্ঞান নিয়ে গেবেষণার দারুণ সময় বলে মন্তব্য করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আরশাদ মোমেন। তিনি বলেন, ফি বছর যেসব শিশুরা অংশগ্রহণ থেকে বাদ পড়ছে তাদের ভুলটা চিহ্নিত করতে হবে। এবারের কংগ্রেসের আহ্বায়ক মোশতাক ইবনে আইয়ূব বলেন, কোনো প্রতিকূলতাই তরুণ শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে বিজ্ঞানের প্রতি অনুরাগে বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি। অনলাইনে হলেও সংখ্যার দিক দিয়ে কমতি হয়নি। উপরুন্তু দেশের বাইরে থেকেও গবেষক-বিজ্ঞানীরা কংগ্রেসে অংশ নিচ্ছেন।